Currently set to Index
Currently set to Follow
Others

বংশগতির অ-আ-ক-খ (বংশগতির ভৌত ভিত্তি কি?)

বংশগতির অ-আ-ক-খ (বংশগতির ভৌত ভিত্তি কি?)

বংশগতির অ-আ-ক-খ
[এই অধ্যায়টা একেবারে প্রাথমিক]

কেন আমরা মা-বাবার মতোন?
নতুন সন্তান জন্ম নেয়ার সাথে সাথে পরিবারের সবার আগ্রহ থাকে নবজাতক দেখতে কার মতো হলো তা বের করার। কেউ বলবে চোখটা যেন মায়ের মতোন। আরেকজন আবিষ্কার করলো পৃথিবীর এই নতুন সদস্যটির গায়ের রং বাবার মতোন। শিশুটি বড় হওয়ার সাথে সাথে হয়তো দাদা-দাদী বা নানা-নানীর সাথে মিল বের হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আমরা কেন দেখতে মা-বাবার মতো হই? এর উত্তর হলো বংশগতি।
পৃথিবীতে যত উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে, তারা অযৌন ও যৌন এই দুইটি প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে। অযৌন প্রক্রিয়ায় একটি মাত্র জীব থেকে তার সন্তান তৈরি হয়। অযৌন প্রক্রিয়া আবার বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। যেমন ব্যক্টেরিয়ার ক্ষেত্রে সরল দ্বিবিভাজন — এক কোষ থেকে দুই কোষ তৈরি। এ কোষ বিভাজনে তৈরি দুইটি কোষ একদম একরকম হয়। এদেরকে বলে ক্লোন। আরেক ধরণের প্রক্রিয়া হলো কোষ থেকে অঙ্কুর তৈরি হওয়া — যেমনটা দেখা যায় ইস্ট জাতীয় ছত্রাকে। কোন কোন জীব আবার ক্ষুদ্র স্পোর তৈরির মাধ্যমে নিজেদের সংখ্যা বাড়িয়ে চলে। এর বাইরেও জীব জগতে বিভিন্ন ধরনের অযৌন প্রজনন দেখা যায়।
অন্যদিক দিয়ে আমরা যে বংশবিস্তারের সাথে বহুল পরিচিত তা হলো যৌন প্রজনন। যৌন প্রজননের মূল বিষয় হলো জননকোষ তৈরি। এ প্রক্রিয়ায় দুইটি ভিন্ন ধরনের জননকোষ তৈরি হয় — শুক্রাণু ও ডিম্বাণু। পুরুষ লিঙ্গের জীবে শুক্রাণু ও স্ত্রী লিঙ্গের জীবে ডিম্বাণু তৈরি হয়। এদের মিলনে তৈরি হয় জাইগোট। শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলনের প্রক্রিয়াকে বলে নিষেক। নিষিক্ত জাইগোট পরবর্তীতে বার বার বিভাজিত হয়ে তৈরি হয় ভ্রুণ বিভাজিত নতুন কোষেরা একে একে বিভিন্ন দেহকলার দায়িত্ব নেয়া শুরু করে আর ভ্রুণ সুগঠিত হলে নতুন শিশু জন্ম নেয়।
মা ও বাবা থেকে দুইটি ভিন্ন জনন কোষ একত্রে নিষিক্ত হয়ে কিভাবে একটি নতুন শিশু তৈরি করে তা এক বিস্ময়কর ঘটনা। আমরা যখন বলছি নবজাতকের চোখ মায়ের মতোন, কিংবা গায়ের রং বাবার মতোন, তখন আমরা বোঝাই এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলোর কোনটা মা আর কোনটা বাবার বংশ থেকে এসেছে। এ বৈশিষ্ট্যগুলোকে আমরা তথ্য হিসেবে কল্পনা করতে পারি। তার মানে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মূলত বাবা-মা থেকে আসা বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের তথ্য বহন করে। এই তথ্য একধরনের জৈব-সংকেত আকারে থাকে। নিষেক প্রক্রিয়ায় এসব সংকেত একসাথে হয়ে ভ্রুণের মধ্যে একে একে প্রকাশিত হয় – অর্থাৎ চোখ হয়ে যায় মায়ের মতোন বা রং হয়ে যায় বাবার মতোন। অবশ্য সব সংকেত ভ্রুণাবস্থাতে প্রকাশিত হয় না। অনেক বৈশিষ্ট্যের সংকেত জন্মের পরে, কিংবা বহু বছর পরে প্রকাশিত হয়।
ডিম্বাণু-শুক্রাণু মিলিত হয়ে জাইগোট তৈরির কিছুক্ষণ পরেই কোষ বিভাজন শুরু হয়। একটি থেকে দুইটি, দুইটি থেকে চারটি, আটটি, ষোলটি এভাবে নতুন কোষ তৈরি হতে হতে পূর্নাঙ্গ ভ্রুণ তৈরি হয়। এ ভ্রুণ মায়ের পেটে বড় হয়ে এক সময় পৃথিবীর আলো দেখে — জন্ম হয় একটি নতুন প্রাণের। নতুন শিশু বড় হওয়ার সময়ও কোষ বিভাজন বংশগতির সংকেত কোষের মাঝে ডিএনএ দিয়ে তৈরি ক্রোমোজমের মধ্যে থাকে।
ক্রোমোজমে অবশ্য ডিএনএর পাশাপাশি হিস্টোন ও অন্যান্য প্রোটিনও থাকে। একেক প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে ভিন্ন সংখ্যক ক্রোমোজম থাকে। যেমন মানুষের কোষে ২৩ জোড়া (২x২৩=৪৬টি)। এখন ভেবে দেখুন, শুক্রাণু ও ডিম্বাণু যদি ২n সংখ্যক ক্রোমোজম বহন করে তাহলে নিষিক্ত ভ্রুণে ক্রোমোজমের সংখ্যা কত হবে? অবশ্যই দ্বিগুণ অর্থাৎ ৪n। তাহলে পরবর্তী বংশের শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে যদি ৪n সংখ্যক ক্রোমোজম থাকে তাহলে তৃতীয় প্রজন্মের নিষিক্ত কোষে ক্রোমোজমের সংখ্যা হয়ে যাবে ৮n। এভাবে প্রতিটি প্রজন্মেই ক্রোমোজম বাড়তেই থাকবে। বাস্তবে কিন্তু এরকম হয় না। জননকোষের ক্রোমোজম দেহকোষের অর্ধেক হয়। অর্থাৎ দেহকোষে ২n ক্রোমোজম থাকলেও জননকোষ n সংখ্যক ক্রোমোজম বহন করে। তার মানে জনন কোষ তৈরির সময় এর মধ্যে বংশগতির তথ্য অর্ধেক হয়ে যায়। নিষেকের পরে শুক্রাণু-ডিম্বাণুর n-সংখ্যক ক্রোমোজম মিলিত হয়ে নিষিক্ত কোষ (জাইগোট) পুনরায় 2n-সংখ্যক ক্রোমোজম বহন করে। যৌন প্রজনন প্রক্রিয়ার এ ধরণটি ছবি-১ থেকে বোঝা যাবে। এ প্রক্রিয়ায় পিতা ও মাতা দুজনের কাছ থেকেই সন্তানের কাছে বংশগতির সংকেত আসে। এ কারণে আমরা মা-বাবার মতো হই।

কেন আমরা মা-বাবার মতো এ প্রশ্নের জন্য এটা অবশ্য বেশ সরল উত্তর, তবে আপাতত এটুকুই থাকুক আজকে।

প্রশ্ন: ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয় কেন?

উত্তর: নিউক্লিয়াসে অবস্থিত নির্দিষ্ট সংখ্যক সুতার মতো ক্রোমোজোম নামক অংশগুলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণত বংশগতির পরিবহনে ক্রোমোজোমের DNA অণুগুলোর জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকৃত ধারক এবং জীবদেহের বৈশিষ্ট্যগুলো পুরষাণুক্রমে বহন করে। এজন্য ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়। |
#সবার_জন্য_বংশগতিবিদ্যা #বংশগতি  #জেনেটিক্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker