টেকনিকাল এসইও

(03) E.A.T এবং একটি SEO ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট তৈরিতে প্লানিং যেমনটা হওয়া প্রয়োজন

টেকনিক্যাল এসইও এর ১ম পর্বে সবাইকে স্বাগতম। টেকনিক্যাল এসইও সিরিজের টিউটোরিয়াল গুলোতে আমরা দেখব একটা ওয়েবসাইট এর যাত্রার শুরুটা কিভাবে করবেন, বিগেনিং এসইও ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট তৈরির জার্নি-টা কেমন করে ঠিকঠাকভাবে প্রফেশনালি শুরু করতে হয়।
এ সবের একটা সম্যক ধারণা পেতে আজকে আলোচনা করব e.a.t নিয়ে। কেননা, E.A.T এর মাধ্যমে এসব জানা যাবে।


E.A.T কি?
E.A.T এর মধ্যে তিনটি শব্দ রয়েছে যার প্রত্যেকটি শব্দের সুনির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে। E.A.T দ্বারা বুঝায় Expertise Authorativeness and Trustworthiness.


EAT এর প্রয়োজনীয়তা
সফলভাবে ওয়েবসাইট চালাতে হলে, একজন ওয়েবমাস্টার হিসেবে এবং seo expert হতে হলে আপনাকে অবশ্যই E.A.T সম্পর্কে জানতে হবে। মোটকথা, কিভাবে আপনি একটা ওয়েবসাইট দাড় করাবেন, আপনার ওয়েবসাইট পরিচালনা করে সাইটের ভ্যালু বাড়াবেন সেটা জানার জন্য E.A.T সম্পর্কে স্বচ্চ ধারণা প্রয়োজন।


ই.এ.টি স্কোর (E.A.T Sore)
e.a.t এর মানের মাধ্যমে একটা ওয়েবসাইট এর দক্ষতা ফুটে উঠে, ওয়েবসাইট এর ভ্যালু বোঝা যায়, ভিসিটর ও গুগলের চোখে বিশ্বস্ততা অর্জন এর মাপদন্ড বুঝা যায়।


E.A.T নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা
এখন, E.A.T এর মধ্যে থাকা শব্দ তিনটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানব-


(১) প্রথমত,
E অর্থাৎ Expertise ফুটিয়ে তুলতে হবে আপনার সাইটের।


একটি ওয়েবসাইট এর এক্সপার্টাইজ যেভাবে গড়ে তুলবেন

(১.১) setup author pages on own website

প্রত্যেক পোস্টে অথোর বক্স শো করানোর জন্য simple author box প্লাগিন ব্যবহার করতে পারেন।


(১.২) Regular Blogging:

রেগুলার ব্লগিং করার জন্য আপনার দরকার হবে
আপনার ব্লগের ক্যাটাগরি অনুযায়ী কি কি কন্টেন্ট পাবলিশ করবেন সে আইডিয়া পাওয়া ও প্লান মোতাবেক আর্টিকেল পাবলিশ করা; এতে রেগুলার ব্লগিং করতে সুবিধা হবে। ট্রেন্ডিং টপিক খুজে পেতে, কন্টেন্ট আইডিয়া পেতে google alerts অথবা feedspot ব্যবহার করতে পারেন। এ নিয়ে আলাদা পোস্ট রয়েছে ঐটা দেখতে পারেন।


(১.৩) Publishing Youtube video

ইউটিউব অনেক বড় একটা প্লাটফর্ম। ইউটিউবে আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য একটা চ্যানেল খুলে সেখানে ভিডিও পাবলিশ করতে পারেন। এতে করে একদিকে যেমন ইউটিউব চ্যানেলে আপনার ওয়েবসাইট এর একটা প্রোফাইল ক্রিয়েট  হবে, অন্যদিকে ইউটিউব থেকে প্রচুর ট্রাফিক পেতে পারেন।


(১.৪) Ebook Publication/book publishing to amazon or other sites.

Amazon ও অন্যান্য pdf ebook sharing সাইটে ebook বানিয়ে আপলোড করে ছড়িয়ে দিতে পারেন।


amazon সাইটে kindle ভার্সনে pdf বই ফ্রিতে পাবলিশ করার পদ্ধতি:
বিভিন্ন ওয়েবসাইট হতে রিসোর্স কালেক্ট করবেন, এরপর সেগুলো দিয়ে একটা Pdf book বানাবেন।Pdf to kindle converter করে আপনার pdf বইটা kindle version এ কনভার্ট করতে পারেন। এরপর এটি kdp.amazon.com/en_US/  লিংকে গিয়ে আপলোড করে পাবলিশ করে দিবেন। আর হ্যা, বইটা আপলোড এর সময় আপনার ওয়েবসাইট এর author নামের সাথে মিল রাখবেন এবং বইটার প্রাইস বসাতে অবশ্যই ফ্রি করে দিবেন। কারণ আপনার টার্গেট হচ্ছে আপনার বইটা amazon প্লাটফর্মে রাখা, আপনার সাইটের পরিচিতি বাড়াতে। বলে
রাখা ভাল, amazon সাইটে আপনার একাউন্ট না থাকলে একটা নতুন একাউন্ট ক্রিয়েট করে নিবেন।


(১.৫) Publishing evergreen content on the site.
evergreen content হচ্ছে ঐসব কন্টেন্ট যেগুলো কখনো পুরোনো হয় না। সবসময় সারাবছর যে কন্টেন্ট গুলো সার্চ হয় ওইগুলোই হচ্ছে evergreen content.
আপনার সাইটে যত বেশি evergreen content দিবেন, সাইটের তত বেশি এক্সপার্টাইজ ফুটে উঠবে।


(২) দ্বিতীয়ত,
A অর্থাৎ Authorativeness গড়ে তুলতে হবে আপনার সাইটের।


যেভাবে আমরা আমাদের ওয়েবসাইটের অথোরিটিটিভনেস বাড়াতে পারি:

(২.১) Being Active on Social Media Sites:
twetter, facebook, pinterest, instragram, linkdin সহ অন্যান্য সোশাল মিডিয়া গুলোতে একটিভ থাকবেন এবং কন্টেন্ট-রিসোর্স বেশি বেশি শেয়ার করবেন। এতে করে আপনার সোশাল প্রোফাইলের ফলোয়ার বাড়াতে পারবেন এবং এসব সোশাল সাইট হতে আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক ড্রাইভ করতে পারবেন।
কন্টেন্ট স্টুডিও টুলস ব্যবহার করে ইচ্ছামত শিডিউল অনুযায়ী সব সোশাল সাইটে একসাথে পোস্ট শেয়ার করতে পারেন।


(২.২) Joining forums (niche related)
আপনার নিশ/ ওয়েবসাইট এর ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফোরাম গুলোতে যুক্ত হবেন। এসব ফোরামে আপনার সাইটের একেকটা প্রোফাইল ক্রিয়েট করার মাধ্যমে সাইটের ভ্যালু বাড়বে। তাছাড়া, এসব ফোরাম হতেও আপনার সাইটে ট্রাফিক ড্রাইভ করতে পারবেন।
কিভাবে নিশ রিলেটেড ফোরাম গুলো খুজে নিতে হয় তা নিয়ে আলাদা একটি পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, ওই পোস্ট দেখে নিতে পারেন।
এসব ফোরামে যুক্ত হওয়ার সাথে সাথে আপনার সাইটের লিংক শেয়ার করা শুরু করবেন না। কিছুদিন, ১-২ মাস এসব ফোরামে যুক্ত থাকবেন, তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করবেন, উত্তর করবেন। এভাবে এসব ফোরামে আপনার যথেষ্ট একটিভিটি বাড়লে এরপর লিংক শেয়ার করতে পারবেন। শুধু শুধু লিংক শেয়ার নয়, অথোরিটি ক্রিয়েট করাই যেন মুলত এসব ফোরামে যুক্ত থাকার মুল উদ্দেশ্য হয়।


(২.৩) Finding influencers of your niche and contact them to promote your content.

যারা আপনার নিশে পপুলার,আইডল, যাদের সবাই একনামে চিনতে পারে।

https://idb.buzzstream.com
এ টুলস সাইটের মাধ্যমে আপনার নিশের পপুলার ব্যক্তিদের footprints, contents, network খুব সহজেই খুজে নিতে পারবেন।
এরপর এইসব পপুলার ব্যক্তিদের সাথে কন্টাক্ট করে আপনার সাইটের লিংক তাদের শোশাল সাইটে শেয়ার করার জন্য রিকোয়েস্ট করতে পারেন, এভাবে উপকৃত হতে পারেন।


(২.৪) Press Release
প্রেস রিলিজ পাবলিশ করার মাধ্যমে আপনার সাইটে ট্রাফিক আনতে পারেন।
প্রেস রিলিজ পাবলিশ করার অনেক সাইট রয়েছে। এসব সাইটে আপনি খুব সহজে প্রেস রিলিজ পাবলিশ করতে পারেন। এজন্য প্রেস রিলিজ লেখার কিছু নিয়মকানুন জানা দরকার।
fitsmallbusiness.com সাইটে গিয়ে প্রেস রিলিজ টেম্পলেট ফরম্যাট আইডিয়া পারেন।
প্রেস রিলিজ নিয়ে বিস্তারিত আর্টিকেল পোস্ট রয়েছে, ঐটা দেখে এর খুঁটিনাটি সব জেনে নিতে পারেন।


(২.৫) As seen on – Google, Hubspot, Yahoo, Medium or Siteground, Crunchbase, ProductHunt
(৩) তৃতীয়ত,
T অর্থাৎ Trustworthiness গড়ে তুলতে হবে।

আপনার ওয়েবসাইট এর ট্রাস্ট-ওর্থনেস যেভাবে রক্ষা করবেন:

(৩.১) Security Plugin

সাইট যত সিকিউর হবে, গুগল ও ভিসিটরের চোখে তত বেশি ভাল দেখাবে। এসব প্লাগিনের সুবিধা হচ্ছে যে সাইট যত বেশি সিকিউরড, সে সাইটকে গুগল তত বেশি প্রাধান্য দেয়।
so, ওয়েবসাইট ওর সিকিউরিটি বৃদ্ধি করতে নিচের প্লাগিন গুলো ব্যবহার করতে পারেন-
Wordfence
Sucuri
ইত্যাদি
তাছাড়াও, সাইটের যেকোনো সমস্যা মোকাবেলায় অগ্রিম সতর্ক থাকতে হবে। এজন্য সাইটের নিয়মিত ব্যাকাপ রাখা প্রয়োজন। ওয়েবসাইট ব্যাকাপ রাখার জন্য নিম্নোক্ত যেকোনো একটি প্লাগিন ব্যবহার করতে পারেন:
UpdraftPlus
VaultPress (Jetpack Backups)
BackupBuddy
ইত্যাদি
এসব প্লাগিনের ব্যবহার নিয়ে আলাদাভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ঐ পোস্ট দেখে নিন


(৩.২) ssl
আপনার ওয়েবসাইট এর ভিসিটরদের বিভিন্ন ইনফরমেশন গোপন রাখার জন্য আপনার ওয়েবসাইট এর এসএসএল(ssl) সার্টিফিকেট থাকা জরুরি। এজন্য আপনার ওয়েবসাইটে ssl certificate যুক্ত করার মাধ্যমে http থেকে https এ রিডাইরেক্ট করে নিবেন।


বি:দ্র: না জেনে থাকলে ssl certificate কিভাবে ফ্রিতে নেওয়া যায় ঐ টিউটোরিয়াল টি দেখতে পারেন।


(৩.৩) using contact information (mobile number)

গুগল ও ভিসিটরদের কাছে আপনার ওয়েবসাইট এর বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য কন্টাক্ট নম্বর ব্যবহার করতে পারেন।
USA এর নাম্বার ব্যবহার করতে চাইলে dingtone ব্যবহার করতে পারেন। এটা ফ্রিতে ১টা usa নাম্বার দিয়ে থাকলে। তবে সবচেয়ে ভাল হয় যদি dingtone থেকে একটি usa premium নাম্নার কিনে নেন।


(৩.৪) Details About us pages, Testimonials

আপানার সাইটের about us, privacy policy page গুলো must থাকা প্রয়োজন।

আপনার সাইটে যদি প্রোডাক্ট সেল করেন বা কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করেন, তাহলে refund policy একটা page বানাতে পারেন। এর মাধ্যমে সহজেই বিশ্বস্ততা অর্জন করা যায়।


(৩.৫) Link building

Link building এর মাধ্যমে একটা সাইট অন্যান্য সাইট হতে লিংক জুস বা ভোট পায় যা এসইওর ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়।
Link building এর ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাজেশন হচ্ছে আপনার নিশ সাইট এর কম্পিটিটর সাইটগুলো যেখান থেকে ব্যাকলিংক নিয়ে এসেছে আপনিও তাদের ফলো করে ঐসব জায়গা থেকে ব্যকলিংক নিয়ে আসতে পারেন।
Link building নিয়ে বিস্তারিত অনেক অনেক আর্টিকেল রয়েছে আমাদের সাইটে। ঐগুলো দেখে নিতে পারেন।


(৩.৬) Trust seals (green, security seals)

free Trust seals লিখে গুগল সার্চ করলে অনেক সাইট পেয়ে যাবেন, যে সাইট গুলো ফ্রিতে Trust seals ব্যবহার করার সুবিধা দেয়।
এসব Trust seals ওয়েবসাইট এর নির্ভরযোগ্যতা বাড়ায়। চাইলে এসব ট্রাস্ট সিল ব্যবহার করতে পারেন।


(৩.৭) outbound link

আপনি যদি আপনার সাইটে তথ্য ও শিক্ষামূলক পোস্ট করেন, তাহলে এসব তথ্য কোথায় হতে সংগ্রহ করেছেন তা রেফারেন্স আকারে দিতে পারেন।
এক্ষেত্রে তা এসইও এর ক্ষেত্রে outbound link হিসেবে ধরা হবে। outbound link এর সুবিধাগুলো কি কি তা নিয়ে আমাদের সাইটে বিস্তারিত একটি পোস্ট রয়েছে, তা দেখতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker