Book Others

akash Choya swapno pdf

বইয়ের নাম: আকাশ ছোয়া স্বপ্ন
লেখক: আমিনুল ইসলাম ফারুক
প্রকাশনী:গার্ডিয়ান
মূল্য:২৪০
পৃষ্ঠা:১৫০
‌‌‌‌‌‌‌————————–++++—————++++———-

★বই রিভিউ ★

কিশোরদের মানসিক গঠনে বইটি অসাধারণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের উচিত কিশোরদের শিখানো…….
যদি উড়তে না পারো, তবে দৌড়াও।
যদি দৌড়াতে না পারো, তবে হাঁটো।
যদি হাঁটতে না পারো, তবে হামাগুড়ি দাও।
যা-ই করো না কেন,
মনে রেখো, সামনে এগিয়ে যেতেই হবে।

” আর ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্ন আসল স্বপ্ন নয়, স্বপ্ন সেটা, যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।”

বই সম্পর্কেঃ-
_______________
একজন মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়ো। পৃথিবীর সব মানুষই কমবেশি স্বপ্ন দেখে। ঘুমের ঘোরে হঠাৎ ঘোড়া হাঁকিয়ে ছুটে যাওয়া, অথৈ সাগরে ডুবতে ডুবতে হারিয়ে যাওয়া, কুঁড়ে ঘরে শুয়ে রাজ প্রাসাদে ঘুরে বেড়ানো, দূর নীলিমায় পাখির ন্যায় আকাশ ছোঁয়া- এমন হাজারো স্বপ্ন আমাদের নিত্য সঙ্গী। কেউ দেখে আগ্রার তাজমহল ঘুরে দেখছে। আবার কেউ বাইতুল্লাহ শরিফ তাওয়াফ করে ঘুমের মধ্যে। এমনটা আমাদের প্রায়ই হয়। এসব স্বপ্ন ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্ন। কিন্তু বইটিতে যে স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে তা জেগে দেখা স্বপ্ন।

প্রকাশকের কিছু কথাঃ-
______________________
আধুনিকতার নামে চরম অন্মাদনার এই পৃথিবী এখন উত্তাল তরঙ্গ। তরুণ-যুবকদের ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। প্রয়োজন সতর্ক ও সচেতন দৃষ্টি রাখার। হাত ধরে তাদের শিখিয়ে দিতে হবে। তাদের প্রতি কদমে ফুল বিছিয়ে দিতে হবে। তাদের ভিতর দিতে হবে স্বপ্নের বীজ। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন টা প্রোথিত করে দিতে হবে বুকের গহীনে।
এক স্বপ্নচারী তরুণ আমিনুল ইসলাম ফারুক বাংলাদেশের কিশোর-যুবকদের জন্য লিখেছেন আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন। বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠায় রয়েছে পরম মমতা আর ভালোবাসা। আশা করি,
একটি তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা…..

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ-
___________________
আমাদের মনে রাখতে হবে, মৃত্যুভয় মানুষের স্বপ্ন ও অগ্রযাত্রাকে কখনো রুখে দিতে পারেনা। কারণ ইচ্ছাশক্তি সফলতা কে আহবান করেন।
জীবনের শুরুতেই তোমাকে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ভাবার দরকার নাই, আমার দেরি হয়ে গেছে, জীবন ক্ষুদ্র; তা উপভোগ এ সময় আরো ক্ষুদ্র। কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কখনো সফলতা সম্ভব নয়। অর্থাৎ প্রতিটি সফলতার পেছনে রয়েছে অনেক ত্যাগ, ও তিতিক্ষা।
তাই শুধু স্বপ্ন থাকলেই হবে না; এ সঙ্গে থাকতে হবে কঠর পরিশ্রম এবং ত্যাগ। বাধাকে জয় করার সাহস আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার মনোভাব।

প্রতিদিন সকালে এই পাঁচটি লাইন পাঠ করতে পারি….
আমি সেরা,
আমি করতে পারি,
আল্লাহ সর্বদা আমার সঙ্গে আছেন,
আমি জয়ী,
আজকের দিনটা শুধুই আমার।

আর অবস্থান যেমনই হোক না কেন। যত বিপত্তি আসুক না কেন। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়ে যাবে, এটক বিশ্বাস করতে হবে। বিশ্বাসে শক্তি যে কত মূল্যবান, জীবনের সফলতা এ শক্তি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বর্ণনা করে প্রকাশ করা যাবে না। ইচ্ছা ও বিশ্বাসের সঙ্গে তোমার কর্মশক্তি জাগ্রত হলে সম্মুখের কুয়াশার ভেতর দিয়ে জয়ের পথ পরিষ্কার হয়ে উঠবে। তুমি যদি জীবনকে বিকাশিত করতে না চাও, তবে ধীরে ধীরে পতনের দিকে ধাবিত হবে। এটাই চিরন্তন নিয়ম।

বাংলাদেশের এক তরুণ কবি আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব এর কন্ঠে গিয়ে উঠে-
স্বপ্ন দেখো আকাশ ছোঁয়ার
স্বপ্ন দেখো বড়ো
স্বপ্ন- ঘুড়ির নাটাই খানি
শক্ত হাতে ধরো।

বইটি পড়লে যা জানতে পারবেনঃ-
_____________________________
১.জ্ঞান অর্জন করার সহজ উপায়
২.সফল মানুষের চরিত্র কেমন হয়
৩.সন্তানের প্রতি বাবার উপদেশ
৪.সময়ের মূল্য কিভাবে দিতে হয়
৫. সাফল্যের বুনিয়াদি উপাদানও
৬.বড় হওয়া মানে কি
৭. বাঁচতে হলে কি কি জানা অপরিহার্য।
৮. কিভাবে আকাশ ছোঁয়া যাই।
ইত্যাদি আরো অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন, ইনশা আল্লাহ্।

প্রিয় কিছু লাইনঃ-
__________________
১.জ্ঞান হচ্ছে তোমাদের হারানো সম্পদ। সুতরাং যেখানে তারাও কুঁড়িয়ে নাও।
২.ভালো খাদ্যবস্তুতে পেট ভরে, কিন্তু ভালো বই মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে।
৩.বরং প্রচুর বই নিয়ে গরীব হয়ে চিলেকোঠায় থাকবো; তবুও এমন রাজা হতে চায় না, যে বই পড়তে ভালোবাসে না।
৪.হে বন্ধুগণ! আজ এ নগরী তোমাদের নিকট যেমন পবিত্র, তেমনি পবিত্র তোমাদের জীবন। কখনো অন্যায় ভাবে অন্যের ওপর হস্তক্ষেপ করবে না।
৫.মানুষের মনে এমন ভাবে জায়গা করো, তুমি মরে গেলে সে যেন তোমার জন্য দোয়া করে ; আর জীবিত থাকলে দেখার আশা রাখে।
৬.তুমি যত ধীরেই আগাও না কেন, সমস্যা নেই; যদি না থেমে যাও।
৭.পরিশ্রমে ধন আনে, পুণ্যে আনে সুখ,
আলস্যে দারিদ্র আনে, পাপে আনে দুখ।
৮.যে বিজ্ঞানকে অল্প জানবে
সে নাস্তিক হবে,
আর যে ভালোভাবে বিজ্ঞান জানবে
সে অবশ্যই ঈশ্বরে বিশ্বাসী হবে।
৯.যারা জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় আহরণ করে তাদেরকে পন্ডিত মনে করি। তবে কুরআনের জ্ঞান ছাড়া তারা মূর্খ পণ্ডিত।
১০.শারীরিক সৌন্দর্য নিয়ে কখনও ই গর্ব করবেন না, কারণ তা আপনার সৃষ্টি নয়। বংশ নিয়েও গর্ব করবেন না, কারণ সেটা আপনি নির্বাচন করেননি। গর্ব করবেন উন্নত চরিত্র নিয়ে, ওইটা আপনি নিজে গঠন করেছেন।

জ্ঞান কিভাবে অর্জন করা যায়?
___________________________
জ্ঞান অর্জন করার জন্য একটি সহজ উপায় হল প্রশ্ন করা। এই প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত পাঁচটি বাধার সম্মুখীন হয়।
১. অজ্ঞতা
২.সীমাবদ্ধতা এবং বিশ্বাস
৩.প্রত্যাখ্যান হবার ভয়
৪.নিজের সম্পর্কে খুব নিচু ও হীনমন্য ধারণার জন্য।
৫. নিজের সম্পর্কে খুব উচু ধারনা বা অহংকার এর জন্য।

বইটির শিক্ষাঃ-
_______________
√ সফলতার জন্য তিনটি বিষয়কে সব সময় মাথায় রাখতে হবে।
এক. যেখানে আছো, সেখানে থেকেই লক্ষ্য অর্জনে লেগে পরো।
দুই. তোমার যা আছে তাই নিয়ে এগিয়ে যাও।
তিন. যতটুকু সক্ষমতা আছে ততটুকু দিয়ে শুরু করো ভালো খারাপ নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই।

√ সাফল্যের তিনটি শর্তঃ-
অন্যের থেকে বেশী জানুন
অন্যের থেকে বেশী কাজ করুন
অন্যের থেকে কম আশা করুন

√ সফলতার জন্য কিছু ধাপ অতিক্রম করতে হয় সেগুলো হচ্ছে
স্বপ্ন+ লক্ষ+ কাজের প্রতি ভালোবাসা+ দক্ষতা
প্রতিটি মানুষের সফলতার পেছনে কয়েকটি বিষয় লুকিয়ে থাকে সেগুলো হল ব্যর্থতা লেগে থাকা পরিশ্রম দুঃখ সাহসী পদক্ষেপ নেয়া অনুভূতিতা লক্ষ্যে স্থির থাকা ঝুঁকি নেওয়া।

√.বিজয়ী হওয়ার কৌশলঃ-
তোমরা যারা বিজয়ী হতে চাও, অবশ্যই কাজের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তা, বিবেক ও কৌশলকে সামনে তালিকায় রাখবে।

√ আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নঃ- যার আশা নেই, তার আছে হতাশা। এই হতাশা মানুষকে মেরে ফেলে। আশাই জীবনের প্রতীক। তাই কবি বলেছেন,
সংসার সমুদ্রর মাঝে দুঃখ তরঙ্গের খেলা
আশা তার একমাত্র ভেলা

√ মেধা বলতে যা বুঝায়ঃ-
মেধা বলতে স্মৃতি কে কাজে লাগিয়ে নিজের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী শক্তিকে গড়ে তোলা। সেজন্য থাকতে হবে। প্রখর বিশ্লেষণী শক্তি আর প্রতিটি বিষয় বুঝতে পারার ক্ষমতা। এই বৈশিষ্ট্যগুলো থাকলেই হয়ে যাবে অন্য সবার থেকে আলাদা।

√ বড় হওয়া মানে কি?
বড় হওয়া মানে কোন কিছুতে কৃতিত্ব দেখাতে পারা। এমন বিশেষ কিছু রেখে যাওয়া, যার জন্য লোকে তোমাকে ১০ জন থেকে আলাদা করতে পারবে। বিশ্ব তোমাকে এক নামে চেনবে। আর প্রচন্ড ধীশক্তির মাধ্যমে মানুষ যে কোন সময় নিজেকে বদলাতে পারে।

বইটি কেন পড়বেন?
_____________________
ঘুরে দাঁড়ানোর অনেকগুলো গল্প নিয়ে সাজানো বইটি।এক কথায় মোটিভেশনাল বই বলতে পারেন। নিজেকে নিজের পরিশ্রম দিয়ে বিচার করার মত একটি বই।দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের সমস্যা সমাধানের এর উপায় জানতে এবং সফল হতে বইটি অপরিহার্য ভাবে ভূমিকা পালন করবে। যদি নিজেকে ঝালাই করতে চান, বইটি অবশ্যই পড়তে হবে।

যারা বই পড়েন না তাদের বলছিঃ-
________________________________
আমার মতো যারা বই পড়েন না তাদের বলছি……বই যে মানুষকে এতোটা তৃপ্ত করতে পারে এই বইটা না পড়লে হয়তো জানতে পারবেন না। বইটা পড়ার পর নিজের মধ্যে এক ধরনের অনুপ্রেরণা বোধ কাজ করবে।

ভালোলাগাঃ-
_______________
বইটি কুরআন ও হাদীসের কোটেশন দিয়ে সাজানো হয়েছে। তার পাশাপাশি অনেকগুলো ছোট ছোট প্রবাদ, বাণী, উক্তি আছে। যা খুব ই ভালো লেগেছে। প্রচ্ছদ টাও সুন্দর। বইয়ের কোয়ালিটি খুব ই ভালো। সব মিলে অসাধারণ একটা বই।

সমালোচনাঃ-
____________
প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন –
মুমিনের জীবন হচ্ছে আশা-নিরাশার দোলাই দোলায়িত। হাদিসটি বইটিতে পেয়েছি। তবে রেফারেন্স নাই। রেফারেন্স থাকলে ভালো হতো।
২/১ টা বানান ভুল চোখে পড়েছে। একটা ই মনে আছে। ১২১ পৃষ্টার শেষের দিকে লেখা আছে…
যে কুরআন তেলাওয়াত করে, অথচ অর্থ শিখে না, তাকে দেখে আমার আশ্চর্য লাগে! তেলাওয়াতের মজা সে কিভাবে চাখবে? এখানে কি চাখবে হবে? আর চাখবে মানে ই বা কি?

লেখক পরিচিতিঃ-
___________________
তরুণ উদীয়মান লেখকের পিতা মাওলানা মঈনুল ইসলাম পেশায় একজন শিক্ষক। মাতা একজন গৃহিনী। সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁর আশৈশব পথচলা। মূলত সোস্যাল কমিন্টমেন্ট থেকেই তার লেখার হাতেখড়ি। শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে যুক্তিনির্ভর ইসলামী মূল্যবোধ সম্পন্ন আদর্শ সমাজ গঠনে স্বপ্ন দেখেন তিনি।

মন্তব্যঃ-
__________
এই বই বাংলাদেশের তরুণদের উন্নত জীবন গঠনে সহায়ক হবে। বইটির সাথে জড়িত সম্মানিত লেখক, প্রকাশনী, পাঠক সহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker