পশু পাখি পালন পদ্ধতি

বিড়ালের উপকারিতা ও অপকারিতা (ইসলামের দৃষ্টিকোণে)

Contents

বিড়াল হচ্ছে একটি নিরীহ এবং আদরের প্রাণী। বিড়াল একটা মানুষকে দায়িত্বশীল এবং যত্নশীল হতে সাহায্য করে। নিচে বিড়ালের অনেকগুলো উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

কালো বিড়ালের উপকারিতা

অনেকে মনে করে থাকেন, বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটালে দেহে প্রশান্তি ও আরামদায়ক অনুভব হয়. ইসলামের দৃষ্টিকোণে বলা হয় যে, ঘরে  বিড়াল থাকলে অশুভশক্তি বা আত্মা সেখানে প্রবেশ করতে পারে না।

বিড়াল পুষলে মানসিক চাপ কমে.  বিড়ালের উপস্থিতিতে ঘুম আরও ভালো হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়ালের মিউ মিউ ডাক  শরীরের পেশী ও অস্থির প্রদাহ নিরাময়ে থেরাপির মতো কাজ করে।

যেসব শিশু বিড়ালের প্রেমে মগ্ন থাকে; তাদের বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

বিড়াল ঘর থেকে ইঁদুর তাড়ায়।

বিড়ালের ক্ষতিকর দিক

যেসব ছেলেরা বিড়াল পোষেন; নারীরা তাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয় অর্থাৎ মেয়েরা সহজে ওইসব পুরুষদের প্রতি পটে যায়। কিন্তু কালো বিড়াল পুষলে সহজে কেউ আকৃষ্ট হতে চায় না।

, যাঁদের হাঁপানি, অ্যালার্জি ইত্যাদি রোগ আছে, তাঁদের জন্য এই শখ ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

শৈশবে বাড়িতে বিড়াল পোষার রীতি ছিল এমন পরিবারের ছেলে-মেয়েদের পরবর্তী জীবনে সিজোফ্রেনিয়া বা অন্য মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে বেশি দেখা যায়।’ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে বিড়াল প্রতিপালনে কোন বাধা নাই। তবে বিড়ালকে পর্যাপ্ত খাদ্য-পানীয় সরবরাহ করতে হবে এবং তার প্রতি দয়া করতে হবে। তাকে কষ্ট দেয়া বা তার উপর জুলুম-অত্যাচার করা যাবে না। অন্যথায় গুনাহগার হতে হবে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এক মহিলা বিনা কারণে একটি বিড়ালকে বন্দী রেখে না খাইয়ে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলার কারণে জাহান্নামি হয়েছে।

ঘরে বিড়াল থাকলে কি নামাজ হবে?

বিড়াল ঘরে পোষা জায়েজ। ঘরে বিড়াল থাকলে নামাজও হবে, রহমতের ফেরেশতাও আসবে।  বিড়ালকে প্রতিবেশির অনুমোদন দেওয়া আছে। সুতরাং বিড়াল থাকলে নামাজ হবে এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

ঘরে বিড়াল থাকলে রহমতের ফেরেশতা আসবে?

বিড়াল ঘরের আশপাশে থাকতে পারবে। বিড়াল আসলে নামাজ হবে না—এমন কথা সঠিক নয়।

বিড়ালের ওপর কোনো ধরনের অবিচার হলে গুনাহগার হতে হবে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—

এক মহিলাকে একটি বিড়ালের জন্য আজাব দেওয়া হয়েছে। কারণ, বিড়ালটিকে আটকে রাখায় সেটি মারা গিয়েছিল। ফলে সে জাহান্নামে গেছে। বিড়ালটিকে সে আটকে রেখে সে খাবার-পানীয় দেয়নি। আবার ছেড়েও দেয়নি যাতে করে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে।

(মুসলিম, হাদিস : ৫৭৪৫)

পশু-পাখিসহ আল্লাহর যে কোনো সৃষ্টির প্রতি দয়া করলে মহান আল্লাহও দয়া করেন, হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন—

দয়াবানদের ওপর দয়াময় আল্লাহও দয়া করেন। তোমরা জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।

(সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪১)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker